রাশেদুল ইসলাম রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯ গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্বাচনের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেছেন—“স্বপ্নের সুন্দরগঞ্জ নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?”

পোস্টটি প্রকাশের পরপরই সুন্দরগঞ্জজুড়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার শ্রেণি পেশার মানুষ মন্তব্যের ঘরে নিজেদের প্রত্যাশা, দাবি ও উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরেন। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের পরপরই জনগণের প্রত্যাশা জানতে এমন উদ্যোগ ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা বহন করে। অনেকেই এটিকে জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন।
পোস্টের মন্তব্যঘরে ইতোমধ্যে অসংখ্য অনুরোধ, দাবি ও মতামত জমা পড়েছে। কেউ উন্নয়ন, কেউ সুশাসন, কেউবা অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেছেন।

মো. আ. রউফ নামের এক যুবক লিখেছেন, তিনি সুন্দরগঞ্জ-১ আসনকে দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে একটি আদর্শ আসনে পরিণত হতে দেখতে চান। তার ভাষায়, সেখানে যেন দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, ঘুষ লেনদেন, নারী নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও জুয়ার আসর না থাকে। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
জাহিদ ইসলাম নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা তারাপুরের লাটশালা ও চর খোর্দা এলাকায় একটি ব্রিজ ও পাকা সড়ক নির্মাণ এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তিনি মন্তব্যে উল্লেখ করেন, এসব উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ ৫৪ বছরের স্বপ্ন পূরণ হবে।
স্থানীয় সাংবাদিক শামসুল হক লিখেছেন, স্থানীয় সরকারের বরাদ্দসমূহ আরও স্বচ্ছভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের বরাদ্দ নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে মো. শামীম খন্দকার নামের এক ব্যক্তি শিক্ষিত বেকার তরুণদের কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার প্রস্তাব দেন। তার মতে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস কমবে এবং যুবসমাজ ধ্বংসের পথ থেকে ফিরে আসবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাধারণ প্রশ্ন ঘিরে সুন্দরগঞ্জবাসীর এমন সক্রিয় অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, জনগণের প্রত্যাশা ও পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে সুন্দরগঞ্জ সত্যিই একটি আদর্শ আসনে রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণের এই সরাসরি সংলাপ ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণমূলক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি আরে বলেন, “সুন্দরগঞ্জ আমার প্রাণের জনপদ। উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণে আমি সাধারণ মানুষের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চাই। সবার সহযোগিতায় আমরা একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ সুন্দরগঞ্জ গড়ে তুলব।”
Leave a Reply